পদ্ধতি ও সূত্র
স্বাস্থ্যের হিসাবে সবচেয়ে জরুরি প্রশ্নটি হলো — সংখ্যাগুলো কোথা থেকে এলো। এখানে প্রতিটির উত্তর আছে।
কে বানিয়েছেন
এই সাইটটি বানিয়েছেন এসকে মিশু — একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার। তিনি ডাক্তার, পুষ্টিবিদ বা কোনো ধরনের স্বাস্থ্যকর্মী নন। এখানে কোনো "মেডিক্যালি রিভিউড" ব্যাজ নেই, কারণ কোনো চিকিৎসক এটি পর্যালোচনা করেননি। যা আছে তা হলো — প্রতিটি সূত্র খোলাখুলি দেখানো, আর প্রতিটি উৎসের মূল লেখায় সরাসরি লিংক।
কোমর-উচ্চতা অনুপাত
সূত্র: কোমরের মাপ ÷ উচ্চতা (দুটোই একই এককে)।
সীমা: ০.৪০–০.৪৯ স্বাস্থ্যকর · ০.৫০–০.৫৯ বর্ধিত · ০.৬০ বা বেশি উচ্চ। ৫ বছর বয়স থেকে নারী-পুরুষ ও সব জাতিগোষ্ঠীর জন্য প্রযোজ্য। বিএমআই ৩৫-এর বেশি হলে এই সীমা প্রযোজ্য নয়।
উৎস: NICE নির্দেশিকা NG246 (যুক্তরাজ্য), সুপারিশ ১.৯.১৪ ও ১.১০.১০।
বাংলাদেশি গবেষণা: Sayeed MA ও সহকর্মীরা, Bangladesh Med Res Counc Bull ২০০৩ — ৪,৯২৩ জন গ্রামীণ প্রাপ্তবয়স্কের তথ্যে কোমর-উচ্চতা অনুপাত বিএমআই ও কোমর-নিতম্ব অনুপাতের চেয়ে ভালো ফল দিয়েছে।
বিএমআই
সূত্র: ওজন (কেজি) ÷ উচ্চতা (মিটার)²।
সীমা ক — WHO আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিভাগ: ১৮.৫-এর কম কম ওজন · ১৮.৫–২৪.৯ স্বাভাবিক · ২৫.০–২৯.৯ অতিরিক্ত ওজন · ৩০.০ বা বেশি স্থূলতার সীমা। উৎস: WHO fact sheet — Obesity and overweight। বাংলাদেশের জাতীয় NCD জরিপ (STEPS ২০১৮) এই সীমাতেই ফল প্রকাশ করেছে।
সীমা খ — দক্ষিণ এশীয়দের জন্য নিম্নতর ঝুঁকি-সীমা: ২৩.০ থেকে অতিরিক্ত ওজন · ২৭.৫ বা বেশি স্থূলতার সীমা। উৎস: NICE NG246, সুপারিশ ১.৯.১১।
একটি জরুরি স্পষ্টীকরণ: WHO-র ২০০৪ সালের বিশেষজ্ঞ পরামর্শসভার প্রতিবেদনে (Lancet ২০০৪;৩৬৩:১৫৭–৬৩) বলা হয়েছে — সভা একমত হয়েছিল যে WHO-র বিএমআই সীমা আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিভাগ হিসেবে বহাল থাকবে, এবং ২৩.০, ২৭.৫, ৩২.৫ ও ৩৭.৫-কে "সম্ভাব্য জনস্বাস্থ্য পদক্ষেপ-বিন্দু" (potential public health action points) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। একই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিভিন্ন এশীয় জনগোষ্ঠীতে ঝুঁকির সীমা ২২ থেকে ২৫ পর্যন্ত ভিন্ন হওয়ায় প্রতিটি জনগোষ্ঠীর জন্য আলাদা সীমা নির্ধারণের চেষ্টা করা হয়নি। তাই "WHO-র এশীয় বিএমআই সীমা" বলে কিছু নেই — এই কথাটি বহু ওয়েবসাইটে ভুলভাবে লেখা আছে।
যা এই সাইটে ইচ্ছাকৃতভাবে নেই
কিছু হিসাব এখানে রাখা হয়নি — সেগুলো জনপ্রিয় হলেও একজন অ-চিকিৎসকের সাইটে রাখা দায়িত্বশীল নয়:
- ক্যালরি ঘাটতি বা ওজন কমানোর লক্ষ্য — এটি পরামর্শ, হিসাব নয়। বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্কদের ১৩.৭% কম ওজনের, আর একটি গবেষণায় (Levinson ২০১৭) খাদ্যাভ্যাসজনিত সমস্যায় আক্রান্ত ১০৫ জনের ৭৩% বলেছেন ক্যালরি ট্র্যাকিং অ্যাপ তাঁদের সমস্যায় ভূমিকা রেখেছে।
- শরীরের চর্বির শতাংশ (ফিতা বা সূত্র দিয়ে) — প্রচলিত সূত্রগুলো দক্ষিণ এশীয়দের চর্বি কম দেখায়, অর্থাৎ ভুল আশ্বাস দেয়।
- শিশু-কিশোরদের বিএমআই পার্সেন্টাইল — এর জন্য পূর্ণ গ্রোথ চার্ট লাগে, আর ভুল ফল একটি শিশুর জন্য ক্ষতিকর।
- গর্ভাবস্থার কোনো হিসাব — গর্ভাবস্থায় বিএমআই এমনিতেই প্রযোজ্য নয়।
- পানি বা প্রোটিনের নির্দিষ্ট লক্ষ্য, এবং কোনো ওষুধ বা সাপ্লিমেন্টের নাম।
এগুলো পরে যোগ করা হবে না — যতক্ষণ না কোনো যোগ্য চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদ সাইটটির সঙ্গে যুক্ত হন।
ভুল পেলে
কোনো সংখ্যা, সীমা বা বাংলা লেখায় ভুল চোখে পড়লে জানান — সংশোধন করে এই পাতার "সর্বশেষ যাচাই" তারিখ হালনাগাদ করা হবে।
সর্বশেষ যাচাই: