কোমর-উচ্চতা অনুপাত

শুধু একটা ফিতা দিয়েই বোঝা যায় পেটের চারপাশে চর্বি জমছে কি না। এটি বিএমআই-এর চেয়ে সরাসরি কেন্দ্রীয় মেদ মাপে, এবং ৫ বছর বয়স থেকে নারী-পুরুষ সবার জন্যই একই সীমা — আলাদা চার্ট লাগে না।

📏 নিয়ম মনে রাখার সহজ উপায়: কোমরের মাপ উচ্চতার অর্ধেকের কম রাখুন।

কোমর ঠিকভাবে মাপবেন যেভাবে

  1. খালি পেটে, পাতলা কাপড়ের ওপর বা সরাসরি চামড়ার ওপর মাপুন।
  2. পাঁজরের সবচেয়ে নিচের হাড় আর কোমরের হাড়ের (হিপ বোন) ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় ফিতা রাখুন — নাভির ওপরে নয়, প্যান্টের বেল্টের জায়গায়ও নয়।
  3. সোজা দাঁড়ান, দুই পা কাছাকাছি, হাত দুপাশে স্বাভাবিকভাবে রাখুন।
  4. শ্বাস ছেড়ে দিন, তারপর মাপ নিন। পেট টেনে ধরবেন না।
  5. ফিতা টান-টান রাখুন, কিন্তু চামড়ায় চাপ দেবেন না।

মাপ ভুল হলে ফলও ভুল হবে — এই হিসাবে গণিতের চেয়ে মাপার নিয়মটাই বেশি জরুরি।

কেন বিএমআই-এর আগে এটি

বিএমআই শরীরের মোট ওজন দেখে, চর্বি কোথায় জমছে তা দেখে না। পেটের চারপাশে জমা চর্বি (কেন্দ্রীয় মেদ) স্বাস্থ্যের জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, আর দক্ষিণ এশীয়দের শরীরে এই ধরনের চর্বি তুলনামূলকভাবে বেশি জমে।

বাংলাদেশেই করা একটি গবেষণায় (Sayeed ও সহকর্মীরা, Bangladesh Med Res Counc Bull, ২০০৩, ৪,৯২৩ জন গ্রামীণ প্রাপ্তবয়স্ক) দেখা গেছে, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও রক্তের চর্বির সমস্যা চিহ্নিত করতে কোমর-উচ্চতার অনুপাত বিএমআই ও কোমর-নিতম্ব অনুপাতের চেয়ে ভালো কাজ করেছে।

এই সীমাগুলো ৫ বছর বয়স থেকে শুরু করে নারী-পুরুষ ও সব জাতিগোষ্ঠীর জন্য প্রযোজ্য — আলাদা চার্ট লাগে না।

এটি একটি প্রকাশিত সূত্রে করা আনুমানিক হিসাব — চিকিৎসা পরামর্শ নয়। আপনার রোগ, ওষুধ, বা শরীরে কতটা পেশি আর কতটা চর্বি — এসব এই হিসাব জানে না, এবং এটি কোনো রোগ নির্ণয় করতে পারে না। ফলাফল দেখে দুশ্চিন্তা হলে নিজে থেকে ডায়েট বা ওষুধ শুরু না করে ডাক্তার বা পুষ্টিবিদের সঙ্গে কথা বলুন। সাইটটি বানিয়েছেন এসকে মিশু — একজন সফটওয়্যার ডেভেলপার, ডাক্তার নন। প্রতিটি সূত্র ও তার মূল উৎস দেখুন: পদ্ধতি ও সূত্র। জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯। মন খারাপ বা মানসিক চাপে কথা বলতে: কান পেতে রই ০৯৬১২-১১৯৯১১ (প্রতিদিন বিকাল ৩টা – রাত ৩টা)।

সর্বশেষ যাচাই: